সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দুর্গা পুজা

 অনেকেই জানতে চায় ভাই দেশের দুর্গাপূজো ভাল লাগে না বিদেশের ?

বলা মুশকিল ।কারন বিদেশে ক্রিসমাস ছাড়া আর কিছুই ঠিক বোঝা যায় না ।
প্রায় সব দেশেই দূর্গাপুজো হয় ।সিডনীতে বেশ হল্লা করে পূজো করা হয় ।কিন্তু যেতে ইচ্ছে হত না ।পুরো পুজোটা নিয়ন্ত্রন করত পূজো কমিটি ।
এই কমিটির অনেকের ব্যক্তিগত জীবন বেশ জেমস বন্ড টাইপের ।পুরো অনুষ্ঠান হত লোক দেখানো ।আমি বলছি না যে এগুলোর দরকার নেই ।দরকার আছে ...।
তবে দূর্গা পূজো বলতে আমি দেশের পূজোটাই বেশি পছন্দ করি ।আজকাল কেমন হয় জানি না ।আমার কৈশোরে বেশ ভালোই হত ।প্রায় মাসখানেক আগে মন্দিরের চাতালে পালবাড়ি থেকে শিল্পীরা আসত ।খড় কুটো বাঁশ দিয়ে তৈরি করত কাঠামো ।তারপর মাটির প্রলেপে তৈরী হত মা দূর্গা ।তার দুই মেয়ে ।হাতি মাথার পিচ্চি গনেশ ,কলকাতার বাবুদের মত সুদর্শন কার্তিক , চিতার ছাল পড়া মহাদেব ।আর তামিল ছবির ভিলেনের মত অসুর ।
প্রতি সন্ধ্যায় চলে যেতাম মন্দিরে ।
দেখতাম শিল্পীরা কাজ করছে। ওরা মন্দিরে প্রসাদ খেত ।বারান্দাতে ঘুমাত আর প্রতিমা তৈরী করত ।
প্রতিমা তৈরী হবার পর প্রথমে করা হত সাদা রং ।সেটা শুকিয়ে গেলে আসল রং করা হত ।ইতিমধ্যে মা দূর্গার জন্য সিংহ আর তামিল সিনেমার ভিলেনের চেহারার মত দেখতে অসুরের জন্য বিশাল মোষ ও তৈরী হয়ে গেছে ।
আমার মা ব্যস্ত হয়ে গেছেন পূজোর কাপড়ের জন্য । ভাইবোনের জন্য পছন্দ মত কাপড় কিনে দরজি বাড়ি যেতে হত ।ব্যস্ততা আর উত্তেজনা ।
আসতে থাকে পুজোর দিন ।
তারপর বেজে ওঠে ঢাকের শব্দ ..।
ষষ্ঠী থেকেই আমার পূজা শুরু। সপ্তমীতে ঘোরাঘুরি। অষ্টমীতে মহাভোজ। নবমীতে দূরে কোথাও। দশমীতে শুভ বিজয়া। বাক্স ভর্তি লাড্ডু আর আমৃত্তি।
এখন প্রতি পূজোয় ব্যস্ত থাকি দেশের বাইরে কোন না কোন দেশে ।হয় খদ্দেরের জন্য রান্না করছি অক্টোপাস ভাজা ।অথবা বিলাসী কোন ধনী কাস্টমারের জন্য তৈরী করছি লং আইল্যান্ড আইসটি ।
জানি না কখন পুজো আসে চলে যায় ।মাঝে মাঝে ইন্টারনেটে বাংলা পত্রিকা পড়তে গিয়ে জানতে পারি অমুক এলাকায় দূর্বত্তরা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে ।তমুক এলাকায় আরো বেশি ।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ি ।

মন্তব্যসমূহ