পুরানো বইয়ের দুর্দান্ত ব্যাপার হচ্ছে এর গায়ে রহস্যময় হারানো দিনের একটা ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
পৌর পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে ব্যাপারটা প্রথম টের পেলাম। ওদের বইয়ের অবস্থা ছিল কাহিল। সব পুরানো। নিয়মিত বাঁধাই হত। পড়তে গিয়ে মনে হত সময়টা যেন আটকে গেছে। আমি বসে আছি অতীতে।
একবার বর্ষাকালে টানা আঠারো দিন বৃষ্টি হয়েছিল। কাঠের আলমারির বই ঘাঁটতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম বইয়ের ভেতর থেকে কেমন একটা সোঁদা ঘ্রাণ ভেসে আসছে।
যেন প্রাচীন রহস্যময় জাদুর লতা ম্যানড্রেক রেখে দিয়েছে কেউ বইয়ের সাথে।
পুরানো বইয়ের দোকানে ঢুকলে কি ধরনের ঘ্রাণ পাওয়া যায় সেই ব্যাপারটা নিয়ে লন্ডনের একদল গবেষক কাজ করেছে । জরিপে দেখা গেছে কেউ চকোলেটের ঘ্রাণ পায়, কেউ ভ্যানিলার, কফি বা ময়লা লিলেন কাপড়ের ঘ্রানের কথাও বলেছে কেউ কেউ।
বই ছাপা হয় কাগজে। এই কাগজ বানানো হয় বিভিন্ন কাঠের মণ্ড দিয়ে। সময়ের সাথে আলো, তাপ, ছায়া, জল সব মিলে কাগজের মধ্যে হরেক রকম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। জন্ম নেয় অন্য রকম একটা ঘ্রাণ। আমাদের মগজ সেটাই নানান ধরনের পরিচিত জিনিসের সাথে মিল খুঁজে নেয়।
তবে বিরাট অংশের লোকজন বলে পুরানো বইয়ে পুরানো দিনের ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
পুরানো দিনের ঘ্রাণ !
কি মিষ্টি না কথাটা ?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন