সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঝিঁকিমিকি রাত নামে

 অমন রাতের অন্ধকার দেখিনি কখনও আগে।

হিমালয়ের কাছেই লান্দর ( Landour) শহর। অমন ঝিকিমিকি  করা রাত আগে কখনই দেখিনি।

 চাঁদের আলো, নক্ষত্রের আলো,লণ্ঠনের আলো, আগুনের শিখা আর জোনাকির আলো রাতের অন্ধকারকে আরও  শানদার করে তুলেছিল।

অনেক অনেক বছর ধরে রাত আমার বন্ধু হয়ে গিয়েছিল।

রাতের বেলা যেন মুক্তির স্বাদ পেতাম। 

রাতের যে আলাদা আমেজ আছে অনেকেই জানে না।

অনেকেই রাতের বেলা আলো জ্বেলে ঘুমায়। নিরাপত্তার জন্য। ভাবে অন্ধকারে যদি ভূত প্রেত কোন রকম ভেল্কি দেখায়?

সেই আদিম যুগে মানুষ যখন শিকার করতে যেত তখন থেকেই রাতের প্রতি তাদের অন্য রকম বিতৃষ্ণা ছিল।

যদিও জানি, পাহাড়ের চূড়ায় বা পথের ধারে বিপদ ওত পেতে থাকে।

তস্কর বা অপরাধী রাতের বেলাই তাদের সময় বেছে নেয় কাজ কর্ম করার জন্য।

অন্যের বাড়িতে দল বেঁধে গিয়ে তাদের টাকা কড়ি কেরে নেয়ার জন্য রাত একদম মোক্ষম সময়। 

এই ধরনের লোক কিন্তু কখনই রাতের নক্ষত্রদের সাথে কথা বলেনি এক প্রহর ও।করলে ওরা খারাপ হত না।

রাত উপভোগ করি।

তখনই যখন জানি পাহাড়ের উপর থাকা এই শহরে অপরাধ একদম কম হয় বা মোটেও হয় না। 

যদি পৃথিবীর অন্য কোথাও বড় কোন শহরেও থাকতাম তারপরও রাতের বেলা বাইরে হাঁটতে যাবার আগে দুইবার ভাবতাম। সেই রাতের রূপ যতই সুন্দর হোক না কেন।

ল্যান্ডর শহরে রাতের বেলা হেঁটে বাড়ি ফেরাটা দারুন রকমের।

রাতের পথ ঘাট বেশ নিঝুম। বড় বড় গাছের সারি আর ঝোপ ঝাড় বেশ চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থাকে।

 হাঁটার সময় চিতা বাঘের গায়ের গন্ধ পেতাম। যদিও চোখে পড়তো না।

শেয়াল চোখে পড়তো। শিকারের আশায় ঘুর ঘুর করছে। বাদুর চোখে পড়তো।এক গাছের ডাল থেকে অন্য গাছের ডালে উড়ে যাচ্ছে।পেঁচা আর রাতের পাখীদের ডাক শুনতে পেতাম।

পেঁচার ডাক ছাড়া রাত হতে পারে না। অনেকেই নিঝুম রাতে পেঁচার ডাক শুনে ভয় পায়।

সন্ধ্যায় পরপরই পেঁচা বের হয়ে পরে নিজের বাসা ছেড়ে।

বসে থাকে পছন্দের গাছের ডালে।

আরও  খানিক পর রাত নেমে আসে নক্ষত্রের রেল গাড়ি নিয়ে।

কবি উইলিয়াম হেনলির মতে রাতের সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে ঘুম।

যেটা আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে সেই উপহার গ্রহণ করি। আর তলিয়ে যাই অতল ঘুমে ।

( রাস্কিন বন্ড এর -Zone for Dancing


অবলম্বনে )

 

মন্তব্যসমূহ