কিছু করার উপায় নেই ।
ভূতটার সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলতে হবে। সেটাই সবচেয়ে ভাল ।
বেশির ভাগ ভূত লাজুক হয়। আড়ালে থাকে।
প্রথমে তোমার দেখতে হবে , বাড়িতে ভূত আছে কি না।
নতুন বাড়িতে থাকে না। পুরানো বাড়ি ওদের পছন্দ। রাতের বেলা বাথরুমের ট্যাঁপ খামাখাই খুলে গেলে বুঝবে ভূত আছে। বাতাস নেই কিন্তু জানালার পর্দা উড়ল ? বুঝবে ভূত আছে। রান্নাঘরে রাতের বেলা বয়াম খুলে কেউ চিনি খেয়ে ফেলল , বুঝবে ভূত আছে।
আরও নানান রকম জিনিস দিয়ে বুঝবে বাড়িতে ভূত আছে। রহস্যময় জিনিসের একটা লিস্ট করে ফেল । লিস্ট দেখলেই বুঝা যাবে। মোটা একটা বাঁধানো খাতায় লিখে রাখ । খাতার নাম - ভুতের খাতা । বা ভুতের রাফ খাতা ।
এখন তুমি যে ভূতের বন্ধু হতে চাও সেটা ভূতকে জানাতে হবে।
কি ভাবে ?
বড় একটা বাদামী কাগজ লাগবে। ব্রাউন পেপার বলে। পাবে কোথায় ? আরে মুদি দোকানের জিনিসপত্র অমন কাগজে আনে। অমন কাগজে সুন্দর করে রঙ পেন্সিল দিয়ে লিখ। কি লিখবে ?
১। তোমার নাম ।
২। বয়স।
৩। প্রিয় রঙ।
৪। মেঘ ভাল লাগে না রোদ।
৫। সমুদ্র ভাল লাগে না পাহাড়।
৬। প্রজাপতি ভাল লাগে না ঘাস ফড়িং ।
তারপর সুন্দর করে লেখো - প্রিয় ভূত, আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।
এইবার নির্জন জায়গায় আঠা দিয়ে পোস্টারটা সেঁটে দাও। সেটা হতে পারে ছাদে। বা তোমার বিছানার তলায়। অন্য কেউ যেন না দেখে পোস্টাররা ।
যদি দেখ চিঠিটা কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে বুঝবে ভূতটা পাজি। বন্ধু হতে চায় না। চিঠির ক্ষতি না হলে বুঝবে ও তোমার বন্ধু হয়ে গেছে।
কিছু ভূত পোষ্টার পছন্দ নাও করতে পারে। ওরা রাজনৈতিক ভূত।
ওদের জন্য চিঠি লিখতে হবে। বেশ কাজ দেয়।
ব্রাউন পেপার দিয়ে একটা পোস্ট কার্ড বানিয়ে নাও। । হাঁসের পালকের কলম হলে ভাল। না হলে গাছের ডাল । ঝোপে পিচ্চি টমেটোর মত একটা ফল হয়। বেগুনি রঙের। ওটা দিয়ে কালি বানাবে। বেগুনি কালি।
লেখা শেষ হলে ডাকটিকিট সেঁটে দিতে হবে। পোস্ট অফিসের ডাকটিকিট হলে চলবে না। কড়ই গাছের শুকনো একটা পাতা লাগবে। এই পাতা দেখতে প্রায় ক্যারাবিয়ান জলদস্যুদের মোহরের মত। একটা পাতা পোস্ট কার্ড বা চিঠির ডান দিকে সেঁটে দিলেই কাজ শেষ। ওটাই ডাকটিকিট।
সুতো দিয়ে চিঠিটা গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখলেই হবে। ভূত চিঠি পেয়ে যাবে।
যখন বন্ধু হবে ভূতটাকে হালকা খাবার দিতে হবে। ভূত হালকা খাবার পছন্দ করে। যেমন ভাঙ্গা গুড়ো বিস্কিট, নষ্ট বাতাসা। ফাঙ্গাস পরা বাসি পাউরুটি। এইসব হাবিজাবি। খাবার ছাদে দিতে হবে।ভাঙ্গা কোন পেয়ালা বা টিনের বাতিল কৌটায় সামান্য জল দিলে আরও ভাল।
এবার ওর লুকিয়ে থাকার জন্য জায়গা দিতে হবে। ভাল হয় কাপড় রাখার ড্রয়ার বা জুতার বাক্স। ওগুলো নিজে সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করবে। তাহলে ভূতের ঘুম ভাল হবে।
ময়লা মোজা যেন জুতার ভেতরে না থাকে। ওরা ময়লা মোজার গন্ধ পছন্দ করে না।
অপ্রয়োজনীয় লাইট জ্বেলে রাখবে না। ওতে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে। আবার ভূতের সমস্যা হয়। বেশি আলোতে ওর সর্দি হয় ।
আমার বাসায় যে ভূতটা আছে ও একটু দুষ্টু প্রকৃতির। মাঝে মাঝে দরকারি বই বা কলম, চাবি এইসব লুকিয়ে রাখে। অনেক খুঁজে তবে পাই। একবার মাউথঅয়াসের বোতলে কেরসিন তেল ভরে রেখেছিল।
ভূতকে কখনও ডিমের অমলেট, দই, প্রচুর ক্রিম দেয়া পেস্ট্রি, এইসব জিনিস খেতে দেবে না। তাহলে ওর বন্ধুদের নিয়ে আসবে তোমাদের বাসায়। সেটা মোটেও ভাল হবে না।
বেশি ভূত মানে বেশি ঝামেলা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন